
আবুল কালাম আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়া এবং মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। থানায় বিচার না পেয়ে অবশেষে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনার পর গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মির্জাগঞ্জ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হলেও অভিযুক্তকে এখনও গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন ও ডিআইজি কার্যালয় ঘেরাওয়ের আলটিমেটাম দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ রবিবার রাতে মির্জাগঞ্জ থানাধীন সিংবাড়ী এলাকায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ তাঁর ননদের অনুরোধে দুই সন্তানসহ ঘর পাহারা দেওয়ার জন্য ওই বাড়িতে যান। রাতে ঘরে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুবাদে ননদের স্বামী মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৮) কৌশলে ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করেন এবং মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তাঁকে ধর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর গত ৩০ জুন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাঁদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। থানায় কোনো প্রতিকার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে আসমা আক্তার পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের কঠোর নির্দেশনার পর গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৪ নম্বর মামলা হিসেবে এটি নথিভুক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন ও পরবর্তী আলটিমেটাম:
থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা ও আসামিকে গ্রেফতার না করার প্রতিবাদে গতকাল ১১ জুলাই বরিশাল ব্ল্যাক কুইন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আসমার জা ফারজানা আক্তার অনু, আশিকুর রহমান মানিক, মোহাম্মদ মনির, মোঃ সোহেল ও মোহাম্মদ রিয়াজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার বিস্তারিত শোনার পরও প্রথমে মামলা নেননি। এছাড়া অভিযুক্ত সালাম মোল্লার ছেলে ও মেয়ের বরাত দিয়ে তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, তারা পুলিশকে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার দাবি করেছে এবং এ কারণেই পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারে গড়িমসি করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ধর্ষক সালাম মোল্লাকে দ্রুত গ্রেফতারের জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী রেঞ্জ ডিআইজি (DIG) কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশনায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগটি তারা অস্বীকার করেছেন।