
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব, স্টাফ রিপোটার।
মেধা ও শিক্ষার উৎকর্ষকে উৎসাহিত করতে বরগুনা জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গৌরীচন্না হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন বরগুনা কৃতি সন্তান জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ জননেতা জনাব মোঃ ফজলুল হক মাস্টার। তিনি বলেন, “আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাদের মেধার যথাযথ বিকাশে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন তারুণ্যের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সংগ্রামী সদস্য সচিব ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি জননেতা জনাব অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াসী মতিন। বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবীন্দ্রনাথ হাওলাদার, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও গৌরিচন্না বাজার কেন্দ্রীয় জামেমসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ইউসুফ আলী মল্লিক, এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আলহাজ মোঃ গোলাম হোসেন।
অত্র বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি এ্যাড: আব্দুল ওয়াসী মতিন বলেন আজ আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের একটি দিন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। এই অর্জন শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক এবং আমাদের বিদ্যালয়েরও গৌরব।আমি বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ এই সম্মান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও ধন্যবাদ জানাই, যারা সন্তানদের শিক্ষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাশে থেকেছেন।
তাছাড়া বক্তব্য রেখেছেন অত্র বিদ্যালয় সম্মানিত প্রধান শিক্ষক তিনি তার বক্তব্য বলেন আজ আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের দিন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে।
আমাদের প্রত্যাশা, তোমরা ভবিষ্যতেও সততা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে বিদ্যালয়, পরিবার ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করে হুমায়রা আফিফা, জান্নাতুল ফেরদৌস, অনুষ্কা হালদার, অঙ্কিতা হালদার, অন্বেষা হালদার, অমিত ও আলিফ। সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করে আয়াদ, তাইয়েবা, সৃজনী ও সাবিত।
উল্লেখ – এ-ই বিদ্যালয় থেকে জমজ তিন সহোদরও বৃত্তি পাওয়ায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।
অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক / প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, এই সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, তাদের পরিবার, শিক্ষক ও বিদ্যালয়েরও গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে আদর্শ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। করতালি ও শুভেচ্ছায় মুখরিত এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন স্বপ্ন ও অনুপ্রেরণা জোগানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব,
স্টাফ রিপোটার।