মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম : বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মানোন্নয়নে যে কয়েকজন কর্মকর্তা পর্দার আড়ালে থেকে নিরলস অবদান রেখে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (AGM) এবং নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা ডিপো ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমান। চাকরি জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি স্তরে তিনি সততা, মেধা, পেশাদারিত্ব ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তাঁর সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনার ছোঁয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অধীনস্থ গোদনাইল মেঘনা ডিপো আজ একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং মডেল ডিপো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
চাকরি জীবনের শুরু ও নিষ্ঠার গল্প:

মোঃ মাহবুবুর রহমান মেঘনা পেট্রোলিয়ামে যোগদানের পর থেকেই নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি মাঠপর্যায়ের অপারেশনাল শাখা থেকে শুরু করে করপোরেট পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সরকারের জ্বালানি নীতি বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবাকে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে আপস না করার আপসহীন মনোভাবই তাঁকে সহকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এক নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে গড়ে তুলেছে।
গোদনাইল ডিপোর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশন:
নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা ডিপোটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ দেশের ১২টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় জ্বালানি তেলের বিশাল চাহিদা পূরণ হয় এই ডিপো থেকেই। মোঃ মাহবুবুর রহমান এই ডিপোর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এর প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনেন।
তাঁর বিশেষ উদ্যোগে পুরো ডিপো এলাকাকে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। তেল লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাজের গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল স্কেল এবং স্বয়ংক্রিয় পরিমাপ পদ্ধতির কারণে জ্বালানি তেলের সঠিক পরিমাপ ও গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে, যা ডিলার ও সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ:
এক সময় জ্বালানি ডিপোগুলোতে নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে সাধারণ ডিলারদের অভিযোগ ছিল। মোঃ মাহবুবুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরই এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি তেল নিতে আসা ট্যাংক লরি চালক, হেলপার ও শ্রমিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও 'চেইন অব কমান্ড' প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো ধরনের অনিয়ম, কালোবাজারি বা কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা দেখা গেলেই তিনি তাৎক্ষণিক কঠোর ও দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁর এই জিরো টলারেন্স নীতির কারণে আজ গোদনাইল ডিপো সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও নিরাপদ একটি প্রতিষ্ঠান।
সংকট নিরসনে দূরদর্শী ভূমিকা:
দেশে বিভিন্ন সময়ে উৎসব (যেমন ঈদ, দুর্গাপূজা) কিংবা বোরো চাষের সেচ মৌসুমে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। অতীতে এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি সংকটের খবর পাওয়া যেত। তবে মাহবুবুর রহমানের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় গোদনাইল ডিপো এই চ্যালেঞ্জগুলো অত্যন্ত সফলভাবে মোকাবিলা করে আসছে। চাহিদার সময়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করেন। তাঁর দূরদর্শী নেটওয়ার্কিং ও অগ্রিম পরিকল্পনার কারণে ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারেনি।
শ্রমিক কল্যাণ ও মানবিক নেতৃত্ব:
মোঃ মাহবুবুর রহমান শুধুমাত্র একজন কঠোর প্রশাসকই নন, একজন মানবিক হৃদয়ের মানুষ হিসেবেও ডিপোর শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে সমাদৃত। লোড-আনলোড শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা, তাদের বসার স্থান ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করাসহ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তিনি নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনার মতো কঠিন সময়ে যখন সবকিছু থমকে গিয়েছিল, তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্রভাগে থেকে ডিপোর কার্যক্রম সচল রেখেছিলেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন শ্রমিকদের পাশে ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ব্যবসায়ী ও ডিলারদের মূল্যায়ন:
গোদনাইল ডিপোর আওতাধীন একাধিক জ্বালানি ব্যবসায়ী ও ডিলার জানান, "মাহবুবুর রহমান স্যার ডিপোর দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের আর কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় না। যেকোনো সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে গেলে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দ্রুত সমাধান করে দেন। তাঁর মতো সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকা উচিত।"
উপসংহার:
একটি দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে জ্বালানি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। মোঃ মাহবুবুর রহমানের মতো যোগ্য, দূরদর্শী এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সেবা আজ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিখুঁতভাবে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। কর্মজীবনে তাঁর এই গৌরবময় অবদানের ধারাবাহিকতা আগামী দিনে বাংলাদেশের সামগ্রিক জ্বালানি খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
এল মল্লিক কমপ্লেক্স (৭ম তলা) ১২ পুরানা পল্টন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৫০৬১৫৯৪১
ই-মেইল : banglatv71sm@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত